সরস্বতী দেবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : দেবী সরস্বতী বিদ্যার দেবী বলে প্রচলিত। কথিত রয়েছে- ঋগ্বেদের যুগে প্রথমে তিনি ছিলেন এক প্রধান ও পবিত্র নদী। পরে তিনি হলেন একজন নদী দেবতা। স্বচ্ছ-মিষ্টি নদীর জলকে অনেক জায়গায় স্নেহশীলা-মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। আবার জল ও দুধকে একটিমাত্র শব্দ ‘পয়ঃ’ দ্বারা অভিহিত করা হয়েছে।
নদীকে মাতৃরূপে মানা হয়। নদীকে দেবতা হিসেবেও গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এজন্য ভারতবর্ষে নদীকে দেবতা জ্ঞানে পুজো করার ভাবনা তৈরি হয়। যেমন- গঙ্গা নদীকে দেবীমাতা হিসাবে পুজো করা হয়। পুরাণের যুগে নানা কাহিনীতে গঙ্গাকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর এই ৩ মূর্তির সঙ্গে যুক্ত করে পরিপূর্ণ একটি মাতৃদেবতায় পরিণত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঋগ্বেদে সরস্বতী নদীর স্তুতি এবং প্রার্থনা মন্ত্রগুলি পাঠ করলে আমরা জানতে পারি, সরস্বতীকে বৈদিক ঋষিগণ শুধুমাত্র একটি নদী বলেই মনে করতেন না। নদীর ওপর এক সর্বনিয়ন্তা দৈবীসত্তা আরোপও করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত একটি বিশ্বাস অটুট রয়েছে। পাশাপাশি ঋগ্বেদের একটি মন্ত্রে সরস্বতীকে স্তুতি করা হয়েছে- তিনি মাতৃগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠা, নদীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠা ও দেবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠা।
শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা এক্ষেত্রে বলছেন, যজ্ঞে প্রদত্ত আহুতির মধ্যে তাঁর একটা ভাগ প্রাপ্য থাকে। ক্রমবিবর্তনের পর তাঁকে ‘বাগ’ দেবীরূপে কল্পনা করা হয়েছে। এই কল্পনা থেকেই একটি নতুন চিন্তার সূচনা। শুধু ভারতবর্ষেই নয়, ভারতের প্রতিবেশি তিব্বত, জাভা ও জাপান প্রভৃতি প্রাচ্য দেশেও সরস্বতী বিদ্যার দেবীতে উন্নীত। তাই ওই সমস্ত দেশে সরস্বতীর পাথরের মূর্তিও আবিষ্কৃত হয়েছে।

